শিবলী রুবাইয়াত ও রাশেদ মাকসুদ: একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ?

পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে বারবার ব্যর্থতার কারনে আলোচনায় শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং রাশেদ মাকসুদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই ব্যক্তির কার্যক্রমে তেমন পার্থক্য নেই, বরং তারা দুইজনই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাদের নেওয়া একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারকে সংকটময় অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর বাংলাদেশের সর্বত্রই পরিবর্তন এর জোয়ার এসেছে। এক্ষেত্রে দেশের পুঁজিবাজার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই খাতটি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ব্যার্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।   

দূর্নীতিবাজ শিবলী রুবাইয়াত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নেয়ার পর, ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কে দায়িত্ব দেয়া হয়। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে উভয়ের নেতৃত্বেই প্রায় একই ধরনের ভুল পদক্ষেপ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কাজের পদ্ধতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আনেননি। অপরিবর্তিত রয়ে গেছে সিস্টেমিক দুর্নীতি স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি। বাজার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও মূলত আগের নীতির পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে।   

বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ রয়েছে যে, রাশেদ মাকসুদ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবলি কমিশনের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বহাল রেখেছেন। বিএস ই সি র ০৮ জন কর্মকর্তার বিরূদ্ধে দুদকে মামলা আছে। বর্তমানে দুদক এই সকল কর্মকর্তার বিরূদ্ধে অনুসন্ধান করছে। এর ফলে বাজারে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে বাজারের অগ্রগতিতে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানেও ব্যর্থতা স্পষ্ট। এর ফলে বাজারে স্বচ্ছতা এবং আস্থার অভাব তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) ১২৭ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর  নিয়োগে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা সরকারি আদেশের তোয়াক্কা করা হয়নি। মহামারি করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে যখন দেশব্যাপী লকডাউন চলছিল, তখন তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনাও আমলে নেয়নি তৎকালীন শিবলি রুবাইয়াত কমিশন। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে বিশদ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই বিশালসংখ্যক জনবল নিয়োগ সংবিধান পরিপন্থি উল্লেখ করে সম্প্রতি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোঃ আরিফ চৌধুরী। খন্দকার রাশেদ মাক্সুদ এই সকল কর্মকর্তাদের বহাল তবিয়তে রেখেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি এইসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ নিয়ে আইনি লড়াই মোকাবেলা করছেন।

শিবলী রুবাইয়াত ও রাশেদ মাক্সুদের নেতৃত্বে বাজারে সুশাসনের অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বাজারে প্রণোদনার পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। কর ছাড় বা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মতো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বাজারে দীর্ঘমেয়াদী মন্দা দেখা দিয়েছে।

অতীতে যেসব ভুল সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোই বারবার গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন বাজার মধ্যস্ততাকারীদের সাথে আলোচনা না করে হুট হাট সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সকল ভুল সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাজারকে স্থিতিশীল করার বদলে আরও অস্থির করে তুলেছে এবং বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থার উন্নয়নে নেতৃত্বের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। শিবলী রুবাইয়াত এবং রাশেদ মাকসুদের মতো একই ধরনের নীতিনির্ধারকদের পরিবর্তে দক্ষ সৎ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার সময় এসেছে।