পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারদর ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে দরপতনের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩১ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনভর কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩২ টাকায় লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫টি শেয়ার মোট ৫২৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর গত এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৩০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৫৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোন লভ্যাংশ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড। এদিকে আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা (লোকসান) এবং ২০২৪ সালের ৩০ জুনে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ৬১ পয়সা। আর আলোচিত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ১২ টাকা ৮৬ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ৮ মার্চ সকাল ১০টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি।
এছাড়া চলতি ২০২৪-২৫ হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কোম্পনিটি এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি হিসাববছরের এই প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৪) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৮১ পয়সা (লোকসান), আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা (লোকসান)। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৩ টাকা ২ পয়সা। আর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৫ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।
‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন করা কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১ শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে, ২২ শতাংশ রয়েছে সরকারি, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮ টাকা ৭৯ পয়সা (লোকসান) এবং ৩০ জুন ২০২৩ শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৫৯ টাকা ৪৭ পয়সা। আর আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ১৬ টাকা ১১ পয়সা। ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২২ শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩৩ টাকা ৬৬ পয়সা। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭৪ পয়সা এবং ৩০ জুন, ২০২১ শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ১২০ টাকা ৬৭ পয়সা।








