কমিটির কাছেও উত্তর নেই

নাজমুলের কথায় পরিষ্কার সেই সুরে আগের সেই উচ্ছ্বাস নেই, ‘আমাদের প্রত্যাশা তেমনই (সেরা বিপিএল আয়োজন) ছিল। আশা করেছিলাম, আমাদের এই যাত্রায় যাঁরা যুক্ত হবেন, তাঁরাও দায়িত্ব নেবেন। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো আমরা সেটা দেখতে পাইনি।

সীমানা... : এবারের বিপিএল হওয়ার কথা ইতিহাসের সেরা। কিন্তু নানা ঘটনায় সেরার মর্যাদা আর মিলছে না। এই যেমন রানের বন্যা বয়েছে ঢাকার পর সিলেটে। অনায়াসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ব্যাটাররা। তবে এর পেছনে বাউন্ডারি সীমানা কমিয়ে আনার প্রভাবের কথা বলেছেন খোদ তামিম ইকবাল। বিপিএলে তাঁর সতীর্থ নাজমুল ইসলাম কি গতকাল সে কারণেই দড়ি টানছিলেন? ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

 

অনিয়মের খবর সবার আগে যাদের কানে পৌঁছার কথা, সেই বিসিবিই যেন ঘুমিয়ে! টিকিট নিয়ে উত্তপ্ত মিরপুর শের--বাংলা স্টেডিয়াম এলাকা। কিন্তু কিছুই জানে না বিসিবি। পারিশ্রমিক নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তুষ্টি, তা- অজানা বিসিবির। আরো নির্দিষ্ট করে বললে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের।

 এবারের বিপিএলের সার্বিক ছবিটা বারবার এভাবেই ফুটে উঠছে।

টিকিট, পারিশ্রমিক  কিংবা বিপিএলকেন্দ্রিক যেকোনো বিষয়েই জানতে চাওয়া হলে ঘুরেফিরে উত্তর আসছে, ‘ বিষয়ে অবগত নই। অথবা আমরা মাত্র জানলাম, দেখছি বিষয়টা আসলে কী?’ মোটের ওপর শৃঙ্খলাহীন এমন এক বিপিএল চলছে, যেখানে ঘটনা ঘটার আগে বিসিবি যেন কিছুই জানছে না। এমনিতে বিপিএল ঘিরে নেতিবাচক আলোচনাই বেশি হয়।

সে জায়গায় এবার তা আরো বেশি সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে। ইতিবাচক বলতে দর্শক উপস্থিতিতে যেকোনো আসরকে ছাড়িয়ে গেছে। তিন ভেন্যুতেই ধারাবাহিকভাবে দর্শকের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য। ফলে টিকিট থেকেও লাভের অঙ্ক ঢুকছে বোর্ডের অ্যাকাউন্টে।

ছাড়া মাঠের ক্রিকেট রানের স্রোতোধারাও মন ভরিয়ে দিচ্ছে দর্শকদের।

এখানে অবশ্য শুভংকরের ফাঁকি আছে। বেশির ভাগ দল গড়া তৃতীয় সারির বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে, যেখানে ভালো মানের বোলার নেই বললেই চলে। যাঁরা শেষ কবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কিংবা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, তাঁদের অনেকে নিজেরাও মনে করতে পারছেন না। অভিযোগ প্রকাশ্যে না এলেও ওশান থমাস, আমির হামজাদের অস্বাভাবিক রকমেরনো বলকিংবা শুভম রঞ্জন, আলাউদ্দিন বাবুদের লাইন খুঁজে না পাওয়া বোলিং বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

বিপিএলের নানা অনিয়ম নিয়ে বারকয়েক বোর্ড বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সদস্যসচিব নাজমুল আবেদিন ফাহিম। অথচ এবার শুরু থেকে বলা হচ্ছিল সময়ের সেরা বিপিএল আয়োজনের। নাজমুলের কথায় পরিষ্কার তাঁদের সুরে আগের সেই উচ্ছ্বাস নেই, ‘আমাদের প্রত্যাশা তেমনই (সেরা বিপিএল আয়োজন) ছিল। আশা করেছিলাম, আমাদের এই যাত্রায় যাঁরা যুক্ত হবেন, তাঁরাও দায়িত্ব নেবেন। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো আমরা সেটা দেখতে পাইনি।এর মধ্যে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছে টিকিট নিয়ে হট্টগোল, পারিশ্রমিক মাঠেরঅস্বাভাবিক ক্রিকেট যেটিকে ক্রিকেট জাতি হিসেবে নিজেদের জন্য লজ্জার বলছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘যা দেখছি ভালো কিছু হচ্ছে না। এবার আমরা কিছুই গুছিয়ে করতে পারিনি। টিকিট নিয়ে সমস্যা, প্রতিদিন মানুষের হুলুস্থুল। ম্যাচ চলে যাওয়ার পর একটা দল থেকে বলা হচ্ছে, তারা খেলবে না। কারণ তাদের ক্রিকেটাররা টাকা পায়নি। এটা তো আমাদের জন্য আসলে লজ্জাজনক।

মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে, ‘আমি যেটা জানতাম, দলগুলো বিসিবিকে একটা পরিমাণ অর্থ ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়। সেই ব্যাংক গ্যারান্টি কোথায়? বিসিবি কেন ব্যাংক গ্যারান্টি ভাঙিয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছে না? বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দায়িত্বটা কী তাহলে?’ এখানে জানিয়ে রাখা ভালো, বিসিবিকে এবার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়নি বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি। আর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দায়িত্বটা যে আসলে কী, এই উত্তরটা কে দেবে? কোনো প্রশ্নেরই সদুত্তর যেন নেই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের!