ভোগান্তি পেরিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি

নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার
২৯তম আসর। দিন যত
যাচ্ছে, মেলায় ততই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের
ভিড় বাড়ছে। ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মানুষের
ভোগান্তিও। কারণ মেলাকে ঘিরে
এশিয়ান বাইপাস, গাজীপুর বাইপাস ও তিনশ ফিট
সড়কের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকে
থাকে শত শত যানবাহন।
মেলায় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরাও।
এছাড়া
মেলায় যাওয়া-আসায় তিন থেকে
চারগুণ ভাড়ার খড়গ তো আছেই।
এত ভোগান্তি পেরিয়েও মেলায় আসছেন দর্শনার্থীরা। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায়
ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া
ভিড় দেখা গেছে। এতে
ব্যবসায়ী ও বিক্রয়কর্মীদের যেন
দম ফেলার ফুরসত নেই।
শনিবার
সরেজমিন দেখা যায়, মেলার
১৮তম দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণায়
কানায় কানায় পূর্ণ ছিল পুরো মেলা
প্রাঙ্গণ। কোথাও যেন একটু দাঁড়িয়ে
থাকার সুযোগ নেই। সকালে দর্শনার্থী
কিছুটা কম থাকলেও বিকালে
পুরো মেলা দর্শনার্থীদের পদচারণায়
মুখরিত হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরাও
তাদের স্টলকে নানা রঙের বাতি
জ্বালিয়ে, সাজসজ্জায় রাঙিয়ে তুলেছেন। মেলার ভেতরে ছিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার
আয়োজন। এতে ছিল নাচগানসহ
নানা আয়োজন।
মেলায়
কাপড় ব্যবসায়ী নুরে আলম আকাশ
বলেন, মেলা শেষের দিকে
পুরোপুরি জমে উঠল। আজ
(শনিবার) মেলায় বিক্রি হচ্ছে অনেক। ক্রেতাদের সমাগম দেখে আমাদের ভালো
লাগছে। সাজিদুর রহমান নামে এক প্রসাধনী
ব্যবসায়ী বলেন, এত টাকা খরচ
করে মেলায় স্টল বরাদ্দ নিয়েছি।
বিক্রি না হলে অনেক
লোকসান হতো। মেলায় আসা
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা পনির হোসেন বলেন,
শনিবার ছুটির দিন তাই স্ত্রী
ও ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছি।
মেলায় কোথাও পা ফেলার জায়গা
নেই।
যানজটে
আটকে থাকা ট্রাকচালক রিয়াদ
বলেন, ২ ঘণ্টা ধরে
মেলার সামনে জ্যামে বসে আছি। মালামাল
নিয়ে গাজীপুর যাব। এই জ্যাম
কখন শেষ হবে আর
কখন যাব।
যমুনা
ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলসে বিশেষ ছাড় : যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের হেড অব সেলস
মো. মেজবাহ উদ্দিন আতিক বলেন, বিগত
বছরের মতো এবারও ক্রেতাদের
চাহিদা অনুযায়ী মেলায় আমরা উন্নতমানের পণ্যসামগ্রী
নিয়ে এসেছি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-রাইসকুকার, রেফ্রিজারেটর,
মাইক্রোওভেন, ইলেক্ট্রনিক ওভেন, গ্যাস বার্নার, কারিকুকার, ইনফারেন্সকুকার, রুমহিটার, ভেন্ডার, মিকসারভেন্ডার, জুসার, টিভি ও মোটরসাইকেল।
এসব পণ্য আমরা বিশেষ
ছাড়ে বিক্রি করছি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, টিভি,
ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশন, ওয়াশিং মেশিন আমরা পণ্যভেদে ১০
থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত
ডিসকাউন্টের অফার করেছি।
মোটরসাইকেলের
ক্ষেত্রে ডিসকাউন্টের অফার ২৫ শতাংশ।
এই প্রথম আমরা দেশে সবচেয়ে
বড় ১০০ ইঞ্চি টিভি
নিয়ে এসেছি। এছাড়া আছে হোম অ্যাপ্লায়েন্স,
যমুনা ফ্যান, তাছাড়া ৫৫ ইঞ্চি, ৪৩
ইঞ্চি, ৩২ ইঞ্চি, আধুনিক
সুযোগ-সুবিধা সংবলিত উন্নত ক্যাটাগরির টেলিভিশন এবং ২ টন,
১ দশমিক ৫ টন, ১
টনের অত্যাধুনিক ফিচার সংবলিত ইনভার্টার এয়ারকন্ডিশনার যা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ
সাশ্রয়ী।
সেখানেও
ক্ষেত্রবিশেষ ১০ থেকে ১২
শতাংশ ডিসকাউন্ট আছে। ফ্রিজের ক্ষেত্রে
ডিসকাউন্ট ১০ থেকে ১৫
শতাংশ। টিভির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ছাড়
দেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি
উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ও বাণিজ্যমেলা
পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিপুল পরিমাণ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের
আসা-যাওয়ার জন্য ২০০টির বেশি
বিআরটিসির শাটল বাস রাখা
হয়েছে।








