যে কৌশলে গ্রেপ্তার হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট

বারবার বাধার পর অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামরিক আইন ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্রোহের অভিযোগে নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে মই বেয়ে বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, ইউনকে গ্রেপ্তারে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গতকালের প্রচেষ্টা প্রাথমিকভাবে রুখে দেন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর (প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস-পিএসএস) সদস্যরা। গাড়ি দিয়ে বাড়ির প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

 বিবিসির খবরে বলা হয়, ইউনকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা রুখে দিতে তীব্র শীতের মধ্যে তার বাড়ির সামনে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে তারা প্রতিবাদ জারি রাখেন। একই সঙ্গে সরকারবিরোধীরাও সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

সিউল থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা জানান, প্রেসিডেনশিয়াল আবাসে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার অভিযানে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

তবে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দল সতর্ক করে দিয়ে বলে যে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনি ভিত্তি নেই। তারা নিয়মিত নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলবে। এর অর্থ হলো, অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনকে রক্ষায় তারা যা যা করা দরকার, সেসব করবে। 

পরবর্তীতে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মই বেয়ে ইউনের বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন।

পরে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

সবাইকে হতবাক করে দিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু তীব্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তিনি তা প্রত্যাহারে বাধ্য হন। স্বল্পস্থায়ী এই সামরিক আইন জারির জেরে ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে দেশটির পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয়। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।