লেনদেনে বন্ধ ও ‘মন্দ’ কোম্পানির দাপট

দেশের শেয়ার বাজারে গত সপ্তাহে লেনদেনে বন্ধ ও ‘মন্দ’ কোম্পানি দাপট দেখিয়েছে। দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি কোম্পানির মধ্যে চারটিই জেড ক্যাটাগরির শেয়ার। দীর্ঘ সময় ধরে এই কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এই চারটি কোম্পানির মধ্যে দুটির আবার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আর বাকি পাঁচটি ‘বি’ ও মাত্র একটি কোম্পানি ‘এ’ ক্যাটাগরি শেয়ার। উল্লেখ্য, যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয় না, বার্ষিক সাধারণ সভা করে না—সেসব কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত। আর ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দিলেও নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা করে এসব কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত।

অন্যদিকে নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা করে ও বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়, এসব কোম্পানি ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, যেসব কোম্পানি বন্ধ, লভ্যাংশ দেয় না— সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। কারণ, জেনেবুঝে শেয়ারে বিনিয়োগ না করলে লোকসান হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
সাপ্তাহিক লেনদেনচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে ওয়েস্টার্ণ মেরিন শিপইয়ার্ড। অথচ ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০২০ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।  বিদায়ি সপ্তাহে এই কোম্পানিটির দাম বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ছিল ছয় টাকা ৪০ পয়সা। গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। 

ডিএসইর তথ্য বলছে, কোম্পানিটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটিও গত চার বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। গত সপ্তাহে খুলনা প্রিন্টিংয়ের দর বেড়েছে ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া, ‘জেড’ ক্যাটাগরির ইয়াকিন পলিমারের ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, হামি ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ দর বেড়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির লিগাসি ফুটওয়্যারের ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ দাম বেড়েছে। আর ‘এ’ ক্যাটাগরির মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সরকারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বন্ধ ও মন্দ কোম্পানির শেয়ার কেনা, আর জেনেবুঝে বিষ পান করা একই কথা। তাই এসব কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে বিনিয়োগকারীকে জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে কোনো কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য দেওয়া হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা এসব তথ্যের মাধ্যমে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এজন্য বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। তারা সচেতন না হয়ে যদি ‘মন্দ’ কোম্পানির শেয়ার কিনে লোকসান করে তাহলে এর দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। সম্প্রতি ‘এক্সচেঞ্জসমূহের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের আর্থিক বিবরণীর সাবমিশন স্ট্যাটাস-সংক্রান্ত তথ্যাদি প্রকাশ’-এর উদ্বোধন করেছে বিএসইসি। 

এ সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে তথ্য একটা প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিদ্যমান। ফলে এই উদ্যোগের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিষয়ে আরও বেশি তথ্য পাবেন এবং আরও ভালো বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।